ডিসেম্বরে হয়তো ফিরবে
মৌসুমী জানালেন তাঁদের এক ছেলে নাম পৃথিবী
সে এখন স্কুলে পড়ছে
এখন যে ধারাবাহিকগুলো দেখানো হচ্ছে আর যেগুলো আগামী দু-এক মাসের মধ্যে আসবে সব কটি তাঁকে দর্শকদের আরও কাছাকাছি পৌঁছে দেবে
সেই স্বপ্নই দেখছেন তিনি
জানালেন মৌসুমী
সাক্ষাৎকার
নিরীক্ষাধর্মী কাজ বেশি হচ্ছে
ঢাকার মঞ্চে জনপ্রিয় প্রযোজনা প্রজাপতি নাটকটির পর নাট্যকেন্দ্র নতুন নাটক ডালিম কুমার মঞ্চে এনেছে
ইতিমধ্যে নাটকটি দর্শকপ্রিয়তাও পেয়েছে
শুভাশিস সমীর সিনহার লেখা নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন ইউসুফ হাসান মঞ্চপাড়ায় যাঁকে সবাই অর্ক নামে চেনেন
আজ তাঁর সাক্ষাৎকার

নাটকটিতে কোন বিষয়টি এখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে
নাটকটিতে রূপকথার ঘুমন্ত মেয়েটিকে রুপার কাঠি-সোনার কাঠি দিয়ে জাগিয়ে তোলে
বর্তমান নাগরিক সভ্যতার এই যান্ত্রিকতায় যেন মানুষ ঘুমিয়ে আছে
আমরা অপেক্ষা করছি একজন ডালিম কুমার আসবে
একজন দেশজ ডালিম কুমার যে এসে আমাদের ঘুমিয়ে থাকা জাতিকে জাগিয়ে তুলবে
বর্তমান সময়ে যেন আমাদের দেশে নেতৃত্বের অভাব
ঘুমিয়ে থাকা জাতিকে জাগিয়ে তুলতে রূপকথার ডালিম কুমারের মতো একজন সত্যিকার নেতা হাল ধরবেন দেশের
এ বিষয়টিকেই নাটকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে
নাটকটি নির্বাচন করলেন কেন
আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্বে শিক্ষকতা করি
২০০০ সালে  বিভাগের চাঁদ বণিকের পালা নাটকটি করতে গিয়ে আমার কাছে মনে হয়েছে যে সারা পৃথিবীতেই নেতৃত্বের অভাব আছে
বর্তমান সময়ে মাও সে-তুং লেনিন মহাত্মা গান্ধী কিংবা বঙ্গবন্ধুর মতো নেতার বড়ই প্রয়োজন
ওই সময় আমার বিভাগের ছাত্র শুভাশিস সমীর সিনহাকে ডালিম কুমারের গল্প ধরে বর্তমানকে নিয়ে নাটকটি লিখতে বলি
কেননা আমার কাছে মনে হয়েছে রূপকথার ডালিম কুমারের মধ্যে নেতার আইকন আছে
ফলে ওই সময় নাটকটি মঞ্চে আনার পরিকল্পনা করি
এ পর্যন্ত নাটকটির অনেক প্রদর্শনী হয়েছে
দর্শকের প্রতিক্রিয়া কেমন
বেশ ভালো
দর্শক নাটকটি পছন্দ করেছে বলেই ইতিমধ্যে আমরা চাঁদপুর সিলেট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক জায়গায় নাটকটির কল শো করেছি
একটু না বললেই নয় নাটকটির প্রথম প্রদর্শনীতেই ৬০ হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে যা ঢাকার মঞ্চে অনেক বড় ব্যাপার
এ পর্যন্ত নাটকটির ১৩টি প্রদর্শনী হয়েছে
অনেকেই বলছেন ঢাকার মঞ্চে এখন তরুণ নাট্যকারের জয়জয়কার
আপনি কী বলেন
ঢাকার মঞ্চে আমি আকতারুজ্জমানের শেষ সংলাপ আজাদ আবুল কালামের রাজা ও অনন্যা জাহিদ রিপনের হরগজ নাটক দেখেছি
তরুণদের এসব কাজ দেখে মনে হয়েছে তাঁরা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছেন
তাঁদের সাহসী মনে হচ্ছে
তাঁরা নতুন মূল্যবোধ দিয়ে পুরোনোকে জাগিয়ে তুলছেন
আমরা সবাই মিলে একটা আশা দেখতে পাচ্ছি
এসব নাটক আঙ্গিক উপস্থাপনা ও বিষয়বস্তুর দিক থেকে আলাদা হচ্ছে
বলা যায় সব দিক থেকেই নিরীক্ষাধর্মী কাজ বেশি হচ্ছে
নব্বইয়ের দশকে আমাদের নাট্যজনেরা থিয়েটারে যে গবেষণাধর্মী কাজ শুরু করেছিলেন তা আজ তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে গেছে
ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ আমরা তরুণেরা দর্শকদের উপহার দিতে পারব
আপনাদের দল নাট্যকেন্দ্রের আরজচরিতামৃত নাটকটি প্রদর্শনীর জন্য মিসরে যাচ্ছে
বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন
এটা আমাদের মঞ্চনাটকের জন্য একটা ইতিবাচক দিক
আমি মনে করি আমাদের নাটক এখন বিশ্বমানের
আমি বলব কলকাতার নাটকের চেয়ে আমাদের নাটক এখন ভালো অবস্থায়
সারা বছরই আমাদের নাটক একাধিক দেশে প্রদর্শনীর জন্য আমন্ত্রিত হচ্ছে
সেই যোগ্যতা এখন আমাদের নাটক অর্জন করেছে
ফলে কায়রোর পরীক্ষণ থিয়েটার উৎসবে আমাদের দলের নাটক আমন্ত্রণ পেয়েছে
গত বছর নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের রক্তকরবী নাটকটি প্রদর্শিত হয়েছে
এর আগের বছর উৎসবে ঢাকা থিয়েটারের বিনোদিনী মঞ্চস্থ হয়
গত বছর আরণ্যক নাট্যদল কোরিয়ায় নাটকের প্রদর্শনী করেছে
এগুলো আমাদের থিয়েটারের অর্জন নাট্যজনদের অর্জন
নতুন কোনো নাটকের নির্দেশনা দিচ্ছেন কি
এই মুহূর্তে নতুন কোনো কাজ করছি না
ডালিম কুমার নাটকটির পর সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার বিভাগের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সেলিম আল দীনের প্রাচ্য নাটকটি করেছি
এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শিত হয়েছে
চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক অপরাধ  ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দল
বিচারের আশায় আবার বুক বাঁধছে স্বজনহারা মানুষ
দোতলা বাড়িটির ভেতরে বড় আঙিনা
একপাশে মন্দির তার সঙ্গে জড়াজড়ি করে জেগে আছে একটি স্মৃতির মিনার
ঠিক ওই জায়গায় হত্যা করা হয়েছিল অধ্যক্ষ নূতনচন্দ্র সিংহকে
মিনতি সিংহ ৩৯ বছর ধরে চোখের জলে ভিজিয়ে রেখেছেন শ্বশুরের রক্তভেজা ওই স্থানটি
তিনি নূতনচন্দ্র সিংহের ছেলে প্রয়াত সত্যরঞ্জনের স্ত্রী
তাঁর বাড়িতে যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত দলের সদস্যরা পা দেন তখনও তিনি শ্বশুর হত্যার বিচার চেয়ে মন্দিরে কেঁদে কেঁদে প্রার্থনা করছিলেন
তিনি বিধাতার কাছে আরজি করছিলেন তাঁর কান্নার দিন যেন শেষ হয় একাত্তরের ঘাতকদের বিচার হয় এবার
মিনতির মতো আবার আশায় বুক বাঁধছে একাত্তরের অনেক শহীদ পরিবার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষেরা
বিচারের আশা ছেড়ে দেওয়া এসব মানুষ এখন স্বপ্ন দেখছেন একাত্তরের মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করা রাজাকার আলবদর ও আল শামসের নেতা-কর্মী কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে
সেই আশায় তাঁরা মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদস্যদের কাছে অকপটে তাঁদের ক্ষোভ দুঃখের কাহিনি বলছেন বলছেন স্বজন হত্যা ও নির্যাতনে জড়িত লোকজনের নাম
তদন্তে ইতিমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীসহ স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের নাম এসেছে
ঢাকায় গিয়ে তাঁরা আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন বলে জানা গেছে
এ প্রসঙ্গে তদন্ত দলের প্রধান আইনজীবী গোলাম আরিফ টিপু বলেন অপরাধ করে যদি অপরাধী পার পেয়ে যায় সেটা জাতির জন্য শুভ নয়
আমরা তদন্তে সন্তুষ্ট
ঢাকায় গিয়ে প্রতিবেদন দেব
তারপর আদালত ব্যবস্থা নেবেন
তিন দিনের তদন্তে সাত সদস্যের দলটি যেখানেই গেছে সেখানেই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের চিহ্ন দেখিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন ও নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা
রাউজানের গহিরার কুণ্ডেশ্বরী জগৎমল্লপাড়া ঊনসত্তরপাড়া নগরের পাহাড়তলী বধ্যভূমি ডালিম হোটেল ফয়স লেক নির্যাতনকেন্দ্র ঘুরে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীদের অভিযোগ শুনেছেন তদন্ত দলের কর্মকর্তারা
পাশাপাশি তাঁরা এসব স্থানে নির্মিত স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন
তদন্ত দল ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের সেই বাড়িতে পৌঁছায় যেখানে হত্যা করা হয়েছিল দানবীর নূতনচন্দ্র সিংহকে
মিনতি তখন মন্দিরের ভেতরে
বাইরে ছোট ছেলে প্রফুল্লচন্দ্র সিংহ একাত্তরের ১৩ এপ্রিল কুণ্ডেশ্বরীতে সংঘটিত নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ঘটনার বর্ণনা দেন
তিনি তাঁর বাবার হত্যার জন্য বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন কাদের সাকা চৌধুরীকে অভিযুক্ত করেন
তিনি বলেন রাউজান ছিল সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা
এখানে ফজলুল কাদের চৌধুরী সাকার বাবা হিন্দুদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বারণ করতেন আমরা তার প্রতিবাদ করি
এসব কারণে আমাদের ওপর তিনি ক্ষিপ্ত ছিলেন
তাই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী পাকিস্তানি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে এসে আমার বাবাকে হত্যা করেছিল বলে শুনেছি
তিনি আরও বলেন এপ্রিলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ জন শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারকে কুণ্ডেশ্বরীতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল
এরপর থেকে ফজলুল কাদের চৌধুরী ও তাঁর লোকজন এখানে ভারতীয় সেনাবাহিনী আশ্রয় নিয়েছে বলে অপপ্রচার শুরু করে
ওই হত্যাকাণ্ডে সাকা চৌধুরীর সঙ্গে নবাব মিয়া গোলাম আলী এলাহী বকস মাবুদসহ আরও কয়েকজন চিহ্নিত রাজাকার জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন নূতনচন্দ্র সিংহের নাতি ভূপতিরঞ্জন সিংহ
ভূপতি তখন বাড়িতে ছিলেন
রাজাকারদের সঙ্গে সেনাবাহিনী আসার পর তিনি পালিয়ে যান
ভূপতি বলেন বিচারের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম
এত বছর পর ওই নৃশংস হত্যার ঘটনা বিচারের আওতায় এসেছে তা দেখে ভালো লাগছে
আমরা এখন দোষীদের শাস্তি চাই
সেই ১৩ এপ্রিলে শুধু কুণ্ডেশ্বরীতে নয় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটানো হয়েছিল রাউজানের মল্লপাড়া ঊনসত্তরপাড়ায়
মূলত সেদিন রাজাকার ও পাকবাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল সংখ্যালঘু নিধন করা
